নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন দেশের সবচেয়ে ছোট আয়তনের নগর হলেও শিল্পাঞ্চল ও জনবসতির ঘনত্বের কারণে এর গুরুত্ব সবসময়ই আলাদা। এবার এই সিটি করপোরেশনের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফতুল্লার চারটি ইউনিয়ন, বন্দরের চারটি ইউনিয়ন এবং কাঁচপুর ইউনিয়নের ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণাংশকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্য

জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্গত ফতুল্লা, কুতুবপুর (আংশিক), এনায়েতনগর ও কাশিপুর ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে মতামত দিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত মতামত আসেনি।

প্রশাসনিক অগ্রগতি

  • গত বছরের আগস্টে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
  • জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মৌজা, দাগসূচি ও মানচিত্র চাওয়া হয় এবং তা জমা দেওয়া হয়েছে।
  • মতামত পাওয়া গেলে দ্রুত সীমানা পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন হবে।

অতিরিক্ত পরিকল্পনা

মন্ত্রী আরও জানান, বন্দর উপজেলার বন্দর, ধামগড়, মদনপুর, মদনগঞ্জ এবং কাঁচপুর ইউনিয়নের দক্ষিণাংশও সিটি করপোরেশনে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রেক্ষাপট

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শিল্পাঞ্চল ফতুল্লা ও বন্দরের নগরায়িত এলাকাগুলোকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা। এসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষরা পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারণকে জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিশ্লেষণ

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আয়তন মাত্র ৭২ বর্গকিলোমিটার। নতুন ইউনিয়নগুলো যুক্ত হলে আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শিল্পাঞ্চল যুক্ত হলে করপোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিক সেবার পরিধি প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবিও পূরণ হবে।

এটি শুধু প্রশাসনিক সম্প্রসারণ নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের নগরায়নের বাস্তব চিত্রকে স্বীকৃতি দেওয়া। শিল্পাঞ্চল ও জনবসতির চাপ সামলাতে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।