​সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াত আমীরের জুমার নামাজ আদায় ও পথসভা: মসজিদভিত্তিক সমাজ গঠন ও সৎ নেতৃত্বের ডাক



 নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে সিদ্ধিরগঞ্জে গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবার (১০ই জুলাই, ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর ও জামায়াত সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার এক সৌজন্য সফরে নাসিক ৪নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। জুমার নামাজ শেষে তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের মুসল্লিদের সাথে কুশলাদি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


এরপর মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় মাওলানা আবদুল জব্বার উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি ৪নং ওয়ার্ডে জামায়াত সমর্থিত তরুণ ও জনপ্রিয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তারেক আজিজ কে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। 



পথসভায় তিনি ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও মসজিদভিত্তিক শাসনব্যবস্থার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “মসজিদভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এবং সঠিক ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে সমাজের দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত গুঁড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

পথসভা সমাপ্তির পর  আবদুল জব্বার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তারেক আজিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গমন করেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজন শেষে ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর প্রার্থী ও থানা পর্যায়ের শীর্ষ দায়িত্বশীলদের নিয়ে এক বিশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ পূর্ব থানা জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ শহীদ এবং নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আব্দুল গফুর। সভায় মহানগরী আমীর নির্বাচনী রণকৌশল ও সাংগঠনিক মেকানিজম নিয়ে উপস্থিত দায়িত্বশীল ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিস্তর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

আলোচনা সভায় আসন্ন নির্বাচনকে সব ধরনের অনিয়ম ও অপচেষ্টামুক্ত রাখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মাওলানা আবদুল জব্বার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের নির্বাচনী কারচুপি সহ্য করা হবে না এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সরকার কারচুপি করার সাহসও পাবে না। যেকোনো মূল্যে জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা হবে।”

সভায় রাজনৈতিক সমীকরণ বিশ্লেষণ করে আগামী নির্বাচনে মেয়র পদের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেন, নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডের সবগুলোতে কাউন্সিলর পাস করলেও মেয়র পদে জয়লাভ না করতে পারলে দল হিসেবে সত্যিকারের রাজনৈতিক সাফল্য আসবে না। তাই কাউন্সিলর নির্বাচনের পাশাপাশি জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ নগর ভবনের শীর্ষ নেতৃত্বে বসাতে ৪নং ও ৬নং ওয়ার্ডসহ প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করা হয়। উপস্থিত সকল স্তরের দায়িত্বশীল ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দ আসন্ন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর উভয় পদেই পূর্ণ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ